করোনা সংক্রমণে দুর্গত মানুষকে সাহায্য করতে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দশ হাজার টাকা দান করলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সুভাষচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। (ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)।
করোনা সংক্রমণে দুর্গত মানুষকে সাহায্য করতে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দশ হাজার টাকা দান করলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সুভাষচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। (ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)।

পুলিশ ডেকে করোনা ত্রাণে ১০,০০০ দান অশীতিপর অধ্যাপকের, মুগ্ধ নেটবিশ্ব

  • একাই বাস করেন পেনশনভোগী প্রাক্তন অধ্যাপক। মাসিক রোজগারের অধিকাংশই খরচ হয় নানান ওষুধপত্র কিনতে।

করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০,০০০ টাকা দান করতে পুলিশের সাহায্য নিলেন কলকাতাবাসী অশীতিপর প্রাক্তন অধ্যপক।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক সুভাষচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে এসেছে।

গত শনিবার লকডাউন কবলিত কলকাতার রাস্তায় টহলদারি পুলিশবাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নিজের ফ্ল্যাটের জানলা থেকে হাত নেড়ে ইশারা করেন বৃদ্ধ সুভাষচন্দ্র। কোনও বিপদে পড়ে সাহায্য চাইছেন ভেবে পুলিশ আধিকারিকরা তাঁর ফ্ল্যাটে পৌঁছলে তিনি তাঁদের বসতে বলেন।

তার পরে জানান, আপাতত কোনও সাহায্যের দরকার না থাকলেও এক বিশেষ দরকারে তিনি পুলিশকর্মীদের সাহায্য চাইছেন। এর পরেই তিনি ঘরের ভিতর থেকে ১০,০০০ টাকার চেক এনে পুলিশ আধিকারিকদের হাতে তুলে দেন।

সুভাষবাবু জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণে দুর্গত মানুষকে সাহায্য করতে তিনি এই অর্থ মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করতে চান। কিন্তু লকডাউন থাকায় এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে নিজে ব্যাঙ্কে যেতে পারছেন না। তা ছাড়া অনলাইন ব্যাঙ্ক লেনদেন সম্পর্কেও তিনি সড়গড় নন।

দমদমের ছোট ফ্ল্যাটে একাই বাস করেন পেনশনভোগী প্রাক্তন অধ্যাপক। মাসিক রোজগারের অধিকাংশই খরচ হয় নানান ওষুধপত্র কিনতে। তবু সেই অর্থ থেকে তিনি ত্রাণ তহবিলে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে এই বিষয়ে পুলিশকর্মীদের সাহায্য চাওয়ার জন্য তিনি ক্ষমাও চান।

সুভাষচন্দ্রের এই অনন্য কীর্তির কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে গত কয়েক দিনে। দেশজুড়ে করোনা সংকটের মাঝে তাঁর এই পদক্ষেপ যথার্থই বীরোচিত, মনে করছেন নেট দুনিয়ার বাসিন্দারা।

বন্ধ করুন