বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > কলকাতা হাইকোর্টে শেষ হল নারদ মামলা, পরবর্তী শুনানি গড়াল বৃহস্পতিবার
কলকাতা হাইকোর্ট (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)
কলকাতা হাইকোর্ট (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)

কলকাতা হাইকোর্টে শেষ হল নারদ মামলা, পরবর্তী শুনানি গড়াল বৃহস্পতিবার

  • এদিন রাজ্যের চার হেভিওয়েটের শুনানিতে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে লড়াইয়ে কোনও পক্ষই বিনাযুদ্ধে এতটুকু জমি ছাড়তে রাজি ছিলেন না। অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এবং সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতার মধ্যে কড়া সওয়াল জবাব চলছিল।

নারদ মামলায় জামিন অথবা শাস্তি কিছুই ঘোষণা হল না। বরং শুনানি আজকের মতো শেষ হয়ে গেল। ফের শুনানি হবে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টোয়। দু’ঘণ্টার উপর সওয়াল–জবাব চললেও কোনও রফাসূত্র বেরিয়ে এলো না। এমনকী নারদ মামলায় গ্রেফতার চার নেতা–মন্ত্রীর জামিন অথবা মামলা স্থানান্তরের কিনারা হল না কলকাতা হাইকোর্টে।

এদিন রাজ্যের চার হেভিওয়েটের শুনানিতে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে লড়াইয়ে কোনও পক্ষই বিনাযুদ্ধে এতটুকু জমি ছাড়তে রাজি ছিলেন না। অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এবং সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতার মধ্যে কড়া সওয়াল জবাব চলছিল। সিবিআই চাইছে বিশৃঙ্খলার তত্ত্বকে সামনে রেখে মামলা অন্য রাজ্যে স্থানান্তকরণ করতে, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি স্পষ্ট বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন প্রতিবাদ করেছিলেন গান্ধীবাদী ঘরানায়। কেন এই জনরোষ?‌ তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটা স্বাভাবিক। এই ধরনের ঘটনায় জনতার ‌রোষ দেখা যায়। সলমন খান–সঞ্জয় দত্তের ঘটনাতেও এমনটা দেখা গিয়েছে অতীতে।

বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, মানছি, সহকর্মী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তো অল্প সময়ের জন্য যাননি। ৫–৬ ঘণ্টা নিজাম প্যালেসে ছিলেন। এই ব্যাপারে আপনি কি বলবেন? কেন শুনানি চলাকালীন নিম্ম আদালতে ছিলেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী? তখন আদালতে দাঁড়িয়ে সিঙ্ঘভি সওয়াল করেন, আইনমন্ত্রী নিম্ন আদালতে গিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু স্রেফ মন্ত্রীই নন, তিনি বিধায়কও। তাহলে এই ঘটনাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখব কেন?

এরপরই ভরা এজলাসে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, আমি ভিডিও দেখাতে পারি মন্ত্রীরা নিজাম প‌্যালেসে বারবার মানুষকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। সিবিআই এই নিয়ে সত্যিটা চেপে যাচ্ছে। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বয়স হয়েছে। অন্যেরা কো–মর্বিডিটির শিকার। তাঁরা কোথায় যাবেন?‌ জামিন আর নিজাম প্যালেসের প্রতিরোধ দুটি পারস্পরিকভাবে যু‌ক্তই নয়। এই ঘটনাকে জুড়তে চেয়েছে সিবিআই। সাত বছরের মামলা। মানুষের গণতান্ত্রিক পথে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। প্রতিবাদ হলে বিশৃঙ্খলা হয়, এটাই গণতন্ত্রের মূল্য।

পাল্টা তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছিল। সিবিআইকে ভয় দেখানোর জন্য প্রচুর দুষ্কৃতী ছিল। অনেক মন্ত্রী আদালত চত্বরে হাজির ছিলেন। এমনকী, আইনমন্ত্রী নিজে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এটা বিচারব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি করার কৌশল। অভিযুক্তদের ভার্চুয়ালি আদালতে পেশ করতে হয়েছিল। এত সংখ্যায় জমায়েত ছিল। জবাবে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সওয়াল করেন, অভিযুক্তদের না জানিয়ে মামলা করা হয়েছে। নানা কৌশলে অভিযুক্তদের জেলে ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে। দীর্ঘ শুনানি চলার পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‌আমরা কি আগামীকাল শুনানি করতে পারি?‌’‌ কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল জানান, অভিযুক্তরা হাসপাতালে রয়েছেন। ফলে আগামীকাল শুনানি হতে পারে।

বন্ধ করুন