বাংলা নিউজ > কর্মখালি > অনলাইন শিক্ষায় বিভ্রাটের জেরে ফের ছাঁটাই ICSE পাঠ্যক্রমে
দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সিলেবাস কমানোর সিদ্ধান্ত নিল ICSE বোর্ড।
দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সিলেবাস কমানোর সিদ্ধান্ত নিল ICSE বোর্ড।

অনলাইন শিক্ষায় বিভ্রাটের জেরে ফের ছাঁটাই ICSE পাঠ্যক্রমে

  • বোর্ড ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি,অঙ্ক,ইকোনমিক্স, ইংরেজির মতো বিষয়গুলিতে এবার সিলেবাস কাটছাঁট করা হল।

অনলাইন ক্লাসে সব ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আসা যাচ্ছে না বলেই কার্যত দ্বাদশ ও দশম শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সিলেবাস কমানোর সিদ্ধান্ত নিল ICSE বোর্ড। জানা গিয়েছে, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি,অঙ্ক,ইকোনমিক্স, ইংরেজির মতো বিষয়গুলিতে এবার সিলেবাস কাটছাঁট করা হল।

তবে বেশিরভাগ বিষয়ে প্র্যাকটিক্যাল-এর সিলেবাস কমানো হয়েছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ICSE বোর্ড অনুমোদিত স্কুলগুলিতে অনলাইনে ক্লাস চলছে। কিন্তু এই অনলাইন ক্লাসের জেরে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সিলেবাস থেকে প্র্যাকটিক্যাল এর বেশিরভাগ অংশই কাটছাঁট করে দেওয়া হয়েছে ।

বোর্ডের তরফে নোটিফিকেশন দিয়ে সিলেবাস কমানোর কথা সবিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ICSE বোর্ড বিভিন্ন স্কুলের কাছ থেকে জানতে চেয়েছিল, অনলাইন ক্লাসের  ছাত্রছাত্রীদের কেমন ফলাফল হচ্ছে । এক সপ্তাহ আগে সেই সংক্রান্ত  রিপোর্ট জমা পড়ে ৷ তাতে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন ক্লাসে লগ ইন করলেও কোথাও কোথাও নেটওয়ার্ক সমস্যা বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অভাবে সব মিলিয়ে শুধুমাত্র ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী অনলাইন ক্লাসে লগ-ইন করছে।  

সব ছাত্রছাত্রীকে অনলাইন ক্লাসের মধ্যে এখনও পর্যন্ত নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি বলেই আইসিএসই বোর্ড অনুমোদিত বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের বেশিরভাগ প্রিন্সিপাল রিপোর্ট দিয়েছেন বোর্ডকে। একদিকে আগামী বছরের বোর্ড পরীক্ষা রয়েছে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর। অনলাইন ক্লাসে এত সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ না করায় তারা পিছিয়ে পড়তে পারে। আর সেই কথা মাথায় রেখেই দশম ও দ্বাদশ এই দুই শ্রেণিতেই সিলেবাস বিপুল কাটছাঁট করল বোর্ড।

সেন্ট্রাল মডার্ন স্কুলের প্রিন্সিপাল নবারুণ দে বলেন, 'অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে বিশেষত পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে বা বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। জেলার বিভিন্ন শহরতলি সংলগ্ন অংশেও আইসিএসই বোর্ড অনুমোদিত স্কুল রয়েছে। এখন অনেক অভিভাবকরাই বিশেষত গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা আসছেন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। কিন্তু সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হওয়ায় তারা অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না। আর তাই অনলাইন ক্লাসে কি পড়ানো হচ্ছে বা শিক্ষকরা যেটি পড়াচ্ছেন সেখান থেকে পিছিয়ে পড়ছেন ছাত্রছাত্রীরা।'

গত জুলাই মাসে আইসিএসই বোর্ড প্রথমবার সিলাবাস কমিয়েছিল। সেখানে মূল বিষয় গুলির সিলেবাস কাটছাঁট করা হয়নি। কিন্তু বর্তমানে অনলাইন ক্লাসের কি প্রভাব পড়ছে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তার রিপোর্ট বিভিন্ন স্কুলের প্রিন্সিপালদের কাছ থেকে পাওয়ার পরেই এবার মূল বিষয়গুলো কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নোটিফিকেশন জারি করেছে। এ প্রসঙ্গে নবারুণ দে বলেন, ‘অনলাইনে প্র্যাকটিক্যালের ক্লাস করানো প্রায় অসম্ভব। তাই এক্ষেত্রে থিওরিটিকাল এর চেয়ে প্র্যাকটিক্যালের সিলেবাসই বেশি কমানো হয়েছে। যদিও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।’

তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আগামী বছর কী ভাবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে আইসিএসই বোর্ড।

বন্ধ করুন