বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > Aryan Khan Case: ‘পলাতক’ NCB-র সাক্ষী আত্মসমর্পণ করতে হাজির লখনউর থানায়, গ্রেফতারিতে ‘না’ পুলিশের
এনসিপি দফতরে আটক আরিয়ান খান ও কেপি গোসাভি (ফাইল ছবি এএনআই) (ANI)
এনসিপি দফতরে আটক আরিয়ান খান ও কেপি গোসাভি (ফাইল ছবি এএনআই) (ANI)

Aryan Khan Case: ‘পলাতক’ NCB-র সাক্ষী আত্মসমর্পণ করতে হাজির লখনউর থানায়, গ্রেফতারিতে ‘না’ পুলিশের

  • আরিয়ানের সঙ্গে ভাইরাল হয়েছিল কে পি গোসাভির সেলফি। তারপর থেকেই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। 

বিতর্ক থামছে না আরিয়ান খান মাদক মামলাকে ঘিরে। মঙ্গলবারই বম্বে হাইকোর্টে আরিয়ান খানের জামিনের আবেদনের শুনানি। তার ঘন্টা কয়েক আগে ফের চূড়ান্ত নাটক এই মামলার অন্যতম সাক্ষীকে ঘিরে। ক্রুজ ড্রাগ কাণ্ডে এনসিবির অন্যতম সাক্ষী কিরণ গোসাভির প্রাক্তন দেহরক্ষী প্রভাকর সেইল গুরুতর অভিযোগ এনেছেন গোসাভি-সহ এনসিবির জোনাল ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে। প্রভাকর সেইলেরও নাম ছিল এনসিবির সাক্ষী তালিকায় কিন্তু নিজের বয়ান থেকে সরে দাঁড়িয়েছে সে। এবার পুণে পুলিশের বয়ান অনুযায়ী পলাতক কেপি গোসাভি নিজেই আত্মসমপর্ণের কথা জানালেন। পেশায় প্রাইভেট ডিটেক্টিভ কে পি গোসাভি। 

সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি জানান, মহারাষ্ট্রের বাইরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত তিনি। তাহলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। কথামতো এদিন লখনউ-এর মারিয়াঁও থানায় আত্মসমর্পণ করতে পৌঁছান গোসাভি, কিন্তু সেখানকার পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে গ্রেফতার করতে অস্বীকার করে। ইতিমধ্যেই একটি অডিও টেপ ভাইরাল হয়েছে,সেখানে কেপি গোসাভিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, 'আমি কিরণ গোসাভি এবং আমি আত্মসমর্পণ করতে চাই'। 

তবে লখনউ পুলিশের তরফে জুরিসডিকশন কারণ দেখিয়ে গোসাভিকে গ্রেফতার করতে অস্বীকার করে, অন্যদিকে পুণে পুলিশের দাবি গোসাভি সম্পর্কিত কোনও তথ্য তাঁরা জানে না। এএনআই-কে সোমবার গোসাভি জানান, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রয়েছে, সব বানানো গল্প। প্রতি মুহূর্তে তদন্তের দিশা বদলে যাচ্ছে। আসলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, যে আমার জন্য আরিয়ান গ্রেফতার হয়েছে। আমাকে ফোনের উপর ফোন করা হয়েছে’। 

গত ২রা অক্টোবর মুম্বইয়ের ইন্টারন্যাশন্যাল ক্রুজ টার্মিন্যালের গ্রিন গেটে এনসিবির যে দল কোর্ডেলিয়া ক্রুজে তল্লাশি চালিয়ে আরিয়ান খানকে প্রথমে আটক ও পরে গ্রেফতার করে এনসিবি।আরিয়ানের সঙ্গে থাকা আরবাজ মার্চেন্টের থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৬ গ্রাম চরস। ৩রা অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় কেভি গোসাভি-র সঙ্গে আরিয়ান খানের একটি নিজস্বী। প্রথমে ভাবা হয়েছিল তিনি সম্ভবত কোনও এনসিবি অফিসার, পরে এনসিবির তরফে তাঁর পরিচিতি প্রকাশ্যে এনে বলা হয় সাক্ষী হিসাবে হাজির ছিলেন গোসাভি। 

যদিও এরপর আগুনের গতিতে খবর ছড়িয়ে পড়ে এনসিবির ওই সাক্ষী আদতে ২০১৮ সাল থেকে পুণের এক জালিয়াতি মামলায় ‘পলাতক’। ২০১৯ সালে একটি চার্জশিট দাখিল করে পুণে পুলিশ এবং তাতে সিআরপিসির ৮২ নম্বর ধারার অধীনে জানানো হয় যে অভিযুক্ত গোসাভি পলাতক। রবিবার আদালতে দায়ের হলফনামায় প্রভাকর সেইল দাবি করে গত তিন সপ্তাহ ধরে গোসাভির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তাঁর। 

সেইল জানিয়েছিলেন, ২রা অক্টোবর এনসিবির দফতরে তিনি তাঁর মালিক কেপি গোসাভির সঙ্গে একজনের কথোপকথন শুনেছিল। সেখানে আরিয়ানকে এই মাদককাণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিনিময়ে ২৫ কোটি টাকা দাবি করবার কথা চলছিল এবং সবশেষে এই মামলা ১৮ কোটিতে চূড়ান্ত করবার কথাও শুনেছিল সে। যার মধ্যে ৮ কোটি টাকা সমীর ওয়াংখেড়েকে দেওয়ার কথা শুনেছিল সেইল। যদিও কার থেকে সেই টাকা চাওয়া হবে তা স্পষ্ট করেনি প্রভাকর সেইল।

নিজের হলফনামায় সেইল আরও দাবি করেছে, শাহরুখ খানের ম্যানেজার পূজা দাদলানির সঙ্গে কেপি গোসাভিকে একটি গাড়ির ভিতরে কথা বলতে দেখেছিল সে। পরবর্তীতে গোসাভি একটা নির্দিষ্ট লোকেশন থেকে ৫০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে তাঁর কাছে নিয়ে আসতে বলে। দুটো টাকা ভর্তি ব্যাগ সে গোসাভির কাছে পৌঁছে দেয়।

বন্ধ করুন