বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন এই ৬টি পানীয়, চোখের নিমেষে কমবে ওজন
বাড়তে থাকা ওজন কম করতে চাইলে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই চা পান করতে ভুলবেন না।
বাড়তে থাকা ওজন কম করতে চাইলে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই চা পান করতে ভুলবেন না।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন এই ৬টি পানীয়, চোখের নিমেষে কমবে ওজন

  • ক্যামোমাইল চা রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম ও ফ্ল্যাভনয়েডসে ভরপুর ক্যামোমাইল চা শরীরকে ডিটক্স করে।

ওজম কমিয়ে সুঠাম, সুন্দর শরীরের অধিকারী হতে কে না চায়। কিন্তু ওজন কমানোর জন্য যে ধরণের ব্যায়াম বা খাদ্যতালিকা কঠিন ভাবে মেনে চলা উচিত, তা অনেকেই করে উঠতে পারেন না। আবার একদল মানুষ এমনও আছেন যাঁরা বহু প্রচেষ্টার পরও মেদ ঝড়াতে পারছেন না। সে ক্ষেত্রে এখানে এমন কয়েকটি স্বাস্থ্যকর পানীয়ের কথা বলা হল, যা ঘুমোতে যাওয়ার আগে পান করলে, অনেকটা সুফল পেতে পারেন। 

১. ক্যামোমাইল চা: ওজন কম করার জন্য শ্রেষ্ঠ পানীয়ের তকমা পেয়েছে ক্যামোমাইল চা। বাড়তে থাকা ওজন কম করতে চাইলে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই চা পান করতে ভুলবেন না। এর ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকার পাশাপাশি রাত্রে ভালো ঘুমও আসবে। আবার একাধিক সমীক্ষায় প্রমাণিত যে, ক্যামোমাইল চা রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম ও ফ্ল্যাভনয়েডসে ভরপুর ক্যামোমাইল চা শরীরকে ডিটক্স করে।

কী ভাবে বানাবেন- প্রথমে উচ্চতাপ মাত্রায় ভালো ভাবে জল ফুটিয়ে নিন। এর পর আঁচ থেকে নামিয়ে সেই জলে শুকনো ক্যামোমাইল পাতা মিশিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন। ১-২ মিনিট পর এটি কাপে ছেকে নিন। মধু মিশিয়ে, ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন।

দালচিনির চা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।
দালচিনির চা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।

২. দালচিনির চা: কম সময়ের মধ্যে দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে এই চা পান করা শুরু করে দিন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এটি উৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক চা হিসেবে গণ্য। এতে মেটাবলিজম বৃদ্ধির গুণ রয়েছে। পাশাপাশি একাধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিবায়োটিকে সমৃদ্ধ দালচিনি। এর ফলে এটি একটি উন্নতমানের ডিটক্স ড্রিঙ্কে পরিণত হয়। দালচিনির চা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। 

কী ভাবে বানাবেন- এক কাপ ফুটন্ত জলে এক চা চামচ দালচিনি পাওডার মিশিয়ে ২০-৩০ মিনিট পর্যন্ত ছেড়ে দিন। ঘুমোতে যাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে এই চা পান করুন।

ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অনিদ্রার শিকার হলে মেথির জল পান করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অনিদ্রার শিকার হলে মেথির জল পান করুন।

৩. মেথির জল: ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অনিদ্রার শিকার হলে মেথির জল পান করুন। আবার হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখার জন্য এই চায়ের জুড়ি মেলা ভার। 

কী ভাবে বানাবেন- এক চামচ মেথি দানা একগ্লাস জলে সারারাত ভিজিয়ে রেখে দিন। সকালে ছেকে নিন ও জল রেখে দিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই জলটিকে ঈষদুষ্ণ গরম করে পান করুন। নিয়মিত পান করলে শীঘ্র ওজন নিয়ন্ত্রণে আসবে।

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই দুই উপাদানই ওজন কমাতে কার্যকরী।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই দুই উপাদানই ওজন কমাতে কার্যকরী।

৪. শশা ও পার্সলের জুস: নিয়মিত এই জুস পান করলে দ্রুত ওজন কমতে পারে। শশায় জল ও ফাইবারের পরিমাণ বেশি। এতে ক্যালরি নেই বললেই চলে। আবার পার্সলে মিনারেল ও ভিটামিনে সমৃদ্ধ। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই দুই উপাদানই ওজন কমাতে কার্যকরী।

কী ভাবে বানাবেন- শশা, পার্সলে, আধ চা চামচ কুচনো আদা ও লেবুর রস মিশিয়ে জুসারে জুস বানিয়ে নিন।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই জুস পান করলে অতিরিক্ত মেদ কমানো যায়।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই জুস পান করলে অতিরিক্ত মেদ কমানো যায়।

৫. অ্যালোভেরা জুস: ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই জুস পান করলে অতিরিক্ত মেদ কমানো যায়। অ্যালোভেরা একাধিক শারীরিক সমস্যা দূর করে ও শরীরে পুষ্টি জোগায়। অন্ত্রের ফ্লোরার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে অ্যালোভেরা জুস সাহায্য করে। এমনকি ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম থাকলে, অ্যালোভেরা জুস পান করে সুফল পেতে পারেন। আবার এটি একটি ল্যাক্সেটিভেরও কাজ করে, যার সাহায্যে পরিপাক নালীতে উপস্থিত প্যারাসাইটগুলিকে শরীর থেকে নির্গত করা যায়।

কী ভাবে বানাবেন- চামচ বা স্কুপের সাহায্যে অ্যালোভেরা থেকে জেল বার করে নিন। এর পর দুকাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন এই জুস।

মেটাবলিজম বাড়াতে ও হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
মেটাবলিজম বাড়াতে ও হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

৬. হলুদ দুধ: শুধু মাত্র সর্দি, কাশি বা ঘা সারিয়ে তুলতেই যে এই দুধ পান করা হয়, তা কিন্তু এক্কেবারেই নয়। এর পাশাপাশি হলুদ মেটাবলিজম বাড়াতে ও হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানগুলি ক্ষতিকর টক্সিনকে শরীর থেকে বের করে দেয়। অন্যদিকে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের জোগান দেয়, যার ফলে ঘুম ভালো আসে। এর ফলে পরের দিন অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।

কী ভাবে বানাবেন- আধ চা চামচ হলুদ গুড়ো দিয়ে দুধ ফুটিয়ে নিন। হলুদ গুড়োর পরিবর্তে এক ইঞ্চি লম্বা গোটা হলুদও দিতে পারেন।

 

বন্ধ করুন