বাড়ি > ঘরে বাইরে > মধ্য প্রদেশে শিখ গ্রন্থীর পাগড়ি খুলে মারধরে অসন্তোষ, সাসপেন্ড ২ পুলিশকর্মী
শিখ গ্রন্থির চুলের মুঠি ধরে মারধরের ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরে সাসপেন্ড হলেন মধ্য প্রদেশের দুই পুলিশকর্মী।
শিখ গ্রন্থির চুলের মুঠি ধরে মারধরের ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরে সাসপেন্ড হলেন মধ্য প্রদেশের দুই পুলিশকর্মী।

মধ্য প্রদেশে শিখ গ্রন্থীর পাগড়ি খুলে মারধরে অসন্তোষ, সাসপেন্ড ২ পুলিশকর্মী

  • নাকা চেকিংয়ে গাড়ির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে জরিমানা বাবদ ২৫০ টাকা দাবি করে পুলিশ। তাই নিয়ে ঝগড়া বাধলে প্রেম সিংকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

মধ্য প্রদেশের বরওয়ানিতে শিখ গ্রন্থির চুলের মুঠি ধরে মারধরের ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরে সাসপেন্ড হলেন দুই পুলিশকর্মী। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিয়ো-তে দেখা গিয়েছে, ওই শিখ ব্যক্তির পাগড়ি খুলে তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে মারধর করছেন এক সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর ও তাঁর সঙ্গী কনস্টেবল। ভিডিয়ো-তে দেখা গিয়েছে, সঙ্গীকে রেহাই দিতে আর এক শিখ বার বার অনুনয় করা সত্ত্বেও দুই পুলিশকর্মী কানে তোলেননি। 

শুক্রবার ৫০ সেকেন্ড মেয়াদের ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরে শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ওই দুই পুলিশকর্মীর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয় রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসও।

জানা গিয়েছে, ঘটনাটি বৃহস্পতিবার বরওয়ানি জেলার পালসুদ শহরে গাড়ির নাকা চেকিংয়ের সময় ঘটে। নিগৃহীত প্রেম সিং ওই শহরের এক গুরুদোয়ারায় গ্রন্থী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। পুলিশের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গাড়ি পরীক্ষা করতে দাঁড় করালে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বচসার সময় তাঁর পাগড়ি খুলে যায় বলেও দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী সাব ইন্সপেক্টর সীতারাম ভাটনগর ও হেড কনস্টেবল মোহন জামরেকে সাসপেন্ড করেছেন পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট নিমিষ আগরওয়াল। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে রাজপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিককে।

নিগৃহীত প্রেম সিং জানিয়েছেন, নাকা চেকিংয়ে আটক হওয়ার পরে তিনি গাড়ি বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে পুলিশকর্মীরা তাঁর থেকে জরিমানা বাবদ ২৫০ টাকা দাবি করেন। জবাবে তিনি পুলিশকর্মীদের বলেন যে, ওই দিন তিনি মাত্র ২০০ টাকা আয় করেছেন বলে দাবি করা পরিমাণ অর্থ দিতে পারবেন না। এই নিয়ে তাঁর সঙ্গে পুলিশের কাজিয়া বাধে যার জেরে তাঁকে মারধর করা হয়।

মধ্য প্রদেশ রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি কমল নাথের অভিযোগ, ‘প্রেম সিং একজন গ্রন্থী এবং তাঁকে অমানবিক ভাবে মারধর করা হয়েছে। এমন আচরণ শিখ ধর্মের প্রতি অপমানসূচক এবং গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

ঘটনার নিন্দা করে কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হরসিমরত কাউর বাদল বলেন, ‘মধ্য প্রদেশে জ্ঞানী প্রেম সিংজি গ্রন্থী এবং অন্য এক শিখের উপরে পাশবিক অত্যাচার মানবিকতার পরিপন্থী। এংমন ঘটনা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্বজুড়ে শিখ সম্প্রদায় এতে স্তম্ভিত। বর্বরোচিত এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি।’ 

 ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন শিরোমণি অকালি দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল, দিল্লি শিখ গুরুদোয়ারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির জাতীয় মুখপাত্র এবং অকালি দল মনজিন্দর সিং সিরসা গোষ্ঠীর মুখপাত্র। 

সম্প্রতি করোনামুক্ত মুখ্যমন্ত্রী তাঁর টুইট বার্তায় দুই পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করার সংবাদ জানিয়েছেন এবং ঘটনার তদন্তের জন্য ইন্দোরের ডিআইজ-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

বন্ধ করুন