দিল্লির একটি হাসপাতালে পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর (ফাইল ছবি, সৌজন্য এএনআই)
দিল্লির একটি হাসপাতালে পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর (ফাইল ছবি, সৌজন্য এএনআই)

Covid-19: অনুসন্ধান-পরীক্ষা-আইসোলেশন-চিকিৎসা, করোনা-যুদ্ধের কৌশল জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের পরিস্থিতি ভালো হলেও ঢিলেমির কোনও প্রশ্নই নেই।

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আগামীদিনে সরকারের কী পদক্ষেপ হবে, কোন বিষয়ে সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হবে, তা নিয়ে হিন্দুস্তান টাইমসের সাংবাদিক ঋতমা কউলের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন।

প্রশ্ন : বলা হচ্ছে, করোনা সংক্রমণের কার্ভকে সমতল রাখতে সক্ষম হয়েছে ভারত। তাহলে এখন ভারতের কৌশল কী হবে?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী : আমাদের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানই সবকিছু বলে দিচ্ছে। অন্যান্য দেশগুলির তুলনায় আমরা ভালো জায়গায় রয়েছি। তবে এই রোগ মোকাবিলায় কৌশলের কোনও পরিবর্তন হবে না। আমাদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে মানে এই নয় যে পরিস্থিতির মোকাবিলায় আমরা কোনওরকম ঢিলেমি দেব। এখনও পর্যন্ত যা কৌশল রয়েছে, সেটাই থাকবে। অর্থাৎ যাঁরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের খোঁজ করা। তাঁদের সন্ধান চালানো, নমুনা পরীক্ষা করা, আইসোলেট করা ও চিকিৎসা করা।

প্রশ্ন : করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি কী কী?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী : সক্রিয়ভাবে পজিটিভ কেস খোঁজা আমাদের মূল লক্ষ্য। তাঁদের চিহ্নিত করার জন্য যা করা প্রয়োজন, তা করা। আমরা উল্লেখযোগ্যভাবে পরীক্ষার ক্ষমতা বাড়িয়েছি। মে'র শেষের মধ্যে প্রতিদিন এক লাখ নমুনা পরীক্ষা করার প্রক্রিয়ায় রয়েছি। তা আমাদের সর্বাধিক চিহ্নিত না হওয়া কেসের সন্ধানে সাহায্য করবে। লজিস্টিক আমাদের কাছে একেবারেই সমস্যার বিষয় নয়। আমরা যথাযথভাবে তৈরি আছি। তা সে মানুষকে আইসোলেশনে রাখার জন্য শয্যা হোক, বা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটর, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইক্যুপমেন্ট (পিপিআই), এন-৯৫ মাস্ক, ওষুধ, অক্সিজেনের জোগান হোক না কেন। আমাদের কোনও কিছুর অপ্রতুলতা নেই। যদি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ না করা হয়, তাহলে চূড়ান্ত পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে পারি ভেবেই আমাদের প্রস্তুতি সাড়া আছে। ভবিষ্যতেও আমরা যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৈরি আছি।

প্রশ্ন : র‌্যাপিড টেস্টের ক্ষেত্রে যেরকম ঠিকঠাক ফলাফল মিলছে না, তাতে কি সেই টেস্ট চালিয়ে যাওয়া হবে?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী : বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। কী সমস্যা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেই কিটগুলি যাচাই করে দেখা হবে। মন্ত্রীগোষ্ঠীর বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি। কারণ এটা একটি টেকনিক্যাল বিষয়। সেটির দেখভাল করছেন আইসিএমআরের বিশেষজ্ঞরা। এখনই কিছু বলাটা আগেভাগে (পড়ুন বাড়াবাড়ি) হয়ে যাবে। তাঁদের কারণটা খুঁজতে দিন। তারপর দেখা যাক, তাঁরা (বিশেষজ্ঞরা) কী পরামর্শ দেন।

(তবে এই সাক্ষাৎকারের পরে সোমবার রাজ্যগুলিকে চিন থেকে আনা র‌্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে আইসিএমআর।)

প্রশ্ন : আপনারা কী কী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী : ভারত একটি বড় দেশ। তবে আমরা একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করেছি। তার উপর ভিত্তি করে ব্লক স্তর পর্যন্তও আমরা সর্বদা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করছি। ঝুঁকির মাত্রার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন জোন ভাগ করা হয়েছে। হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। সংক্রমণ রোখার পরিকল্পনা রূপায়ণের জন্য সংক্রামক এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। আক্ষরিক অর্থেই রাজ্যগুলির হাত ধরে সব শূন্যস্থান পূরণের কাজ করছে কেন্দ্র। কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। তাই পিপিই, মাস্কের মতো সামগ্রীগুলি দেশীয়ভাবে তৈরির জন্য ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আর আজ আমাদের ১০০-র বেশি দেশীয় উৎপাদক রয়েছে, যারা উৎপাদন শুরু করেছে।

প্রশ্ন : ওষুধ ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের জোগানের যাতে কোনও প্রতুলতা না হয়, তা নিশ্চিত করছেন আপনারা?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী : করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় যেমন লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তেমনই যে কোনও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের জোগান নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করছে সরকার। তা সে ওষুধ হোক বা অন্যান্য় সামগ্রী। মন্ত্রীগোষ্ঠীর বৈঠকে বিশদে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংক্রমণ রোখার জন্য পদক্ষেপ ছাড়াও মানুষ যাতে কোনও অসুবিধার মুখে না পড়েন ও জরুরি সামগ্রী তাঁরা পান, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিচার করা হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।

প্রশ্ন : চারিদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে প্রচুর ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যে কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও সুস্থ হয়ে ওঠা করোনা আক্রান্তদের বিভিন্ন রকম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। কীভাবে এটির মোকাবিলা করবেন ?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী : ভুয়ো তথ্যের মোকাবিলা করার একটাই উপায় - (সঠিক) তথ্যসূত্র খুঁজে দেওয়া। যা সরকার খুঁজে দিচ্ছে। জনসাধারণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা চালাচ্ছি। জনসাধারণের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য হেল্পলাইন নম্বর, ইমেল আইডি ও তথ্য যাচাইকারী পোর্টাল খোলা হয়েছে। তথ্যের অসমর্থিত সূত্র নিয়ে আলোচনার থেকে সেগুলি ব্য়বহার করা উচিত।

বন্ধ করুন