করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

করোনাভাইরাসের জেরে কীভাবে মৃত্যু হয়, কীভাবেই বা তা মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে

  • সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যাটা এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যাও ৭৫ ছুঁয়ে ফেলেছে।

শুরুটা হয়েছিল চিন থেকে। তারপর ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অনেক দেশে। সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যাটা এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যাও ৭৫ ছুঁয়ে ফেলেছে। এমনকী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধেরও।

আরও পড়ুন : করোনা থেকে বাঁচতে ট্রাম্পের হাতিয়ার 'নমস্তে', প্রশংসা ভারতের

কিন্তু কীভাবে এরকম মারণ হয়ে ওঠে করোনা ও কীভাবে তা মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে যা মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়? সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অবশ্য জানা যায়নি। তবে গবেষণা চলছে। আর আপাতত গবেষণায় যে তথ্য উঠে এসেছে, সেই অনুযায়ী করোনাভাইরাস কিন্তু ততটাও মারাত্মক নয়। করোনায় আক্রান্তের মধ্যে তিন থেকে চার শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন : করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে টাকা-পয়সা নাড়াচাড়ায়, সতর্ক করল ‘হু’

এইমসের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান শোভা ব্রুর বলেন, 'COVID-19 খুব মারাত্মক নয়। তবে অত্যন্ত সংক্রামক। যেহেতু অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হন, তাই মৃতের সংখ্যাটাও বেশি হয়। অত্যন্ত সংক্রামিত হাম ও চিকেন পক্সের সঙ্গে প্রায় এক সারিতে রয়েছে এটা। তবে এখনও পর্যন্ত এটার (COVID-19) কারণ জানা যায়নি। যা জানা গিয়েছে, তাতে ভাইরাসটি শ্বাসতন্ত্র থেকে গ্যাস্ট্রো-ইনটেন্সিনাল ট্র্যাক্টে যায়। ক্রমশ তা রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওর হয়ে মৃত্যু হয়।'

কীভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ে মানুষের দেহে? রইল তথ্যতালাশ (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
কীভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ে মানুষের দেহে? রইল তথ্যতালাশ (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

আরও পড়ুন : কীভাবে করোনার প্রকোপ থেকে রক্ষা পাবেন, দেখে নিন যাবতীয় তথ্য

গত বুধবার জার্নাল 'ল্যানসেট'-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গলার পিছন থেকে SARS-COV-2 ভাইরাস ক্রমশ ফুসফুস ও রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। উহানের ১৯১ জন আক্রান্তের শরীরে কীভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, তা বিশ্লেষণ করে যে তথ্য উঠে এসেছে, তার ভিত্তিতেই একথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন : করোনায় আক্রান্ত নাকি সাধারণ ফ্লু বা সর্দি-কাশি হয়েছে, বুঝবেন কীভাবে?

শরীরের মধ্যে প্রবেশের পর স্পাইকের মতো দেখতে প্রোটিন ব্যবহার করে অ্যাঙ্গিওটেসস্টিন রূপান্তরকারী এনজাইম ২ (ACE-2) নামক রিসেপটরের সঙ্গে সংযুক্ত হয় করোনাভাইরাস। যে এনজাইম ২ শ্বাসযন্ত্রের কোষে পাওয়া যায়। সেই রিসেপটরের মধ্যে ঢুকে সংক্রমণ ছড়ায় ভাইরাসটি।

আরও পড়ুন : করোনাভাইরাস থেকে শিশুকে কী ভাবে রক্ষা করবেন, জেনে রাখুন জরুরি টিপ্‌স

বিশেষজ্ঞরা জানান, গুণিতক হারে বাড়তে বাড়তে ভাইরাস ফুসফুসে পৌঁছায়। ফলে অ্যাবভেওলিতে (ছোটো বায়ুর থলি, যেখানে রক্ত ও ফুসফুস কার্বন ডি-অক্সাইড ও অক্সিজেন বিনিময় করে) ইনফ্লেমেশন হয়। ফলে সেই ছোট্ট থলিতে ফ্লুইড ও পুস (সংক্রমণের কারণে হলুদ বা সবুজ আভাযুক্ত ঘন ফ্লুইড) ভরে যায়। তার জেরে নিউমোনিয়া হয়। ইনফ্লেমড ফুসফুসের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়। উপসর্গ দেখা দেওয়ার আট থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অ্যাকউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম হয়।

আরও পড়ুন : করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে কী দিয়ে ও কীভাবে হাত ধুতে হবে? দেখে নিন

পাশাপাশি, ওই রোগীদের বিশ্লেষণের ফলে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে ৪৮ শতাংশের একাধিক ডিসঅর্ডার রয়েছে। ৩০ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। ডায়াবেটিস ও করোনারি হৃদরোগ রয়েছে যথাক্রমে ১৯ ও ৮ শতাংশ আক্রান্তের।

ভারতের করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
ভারতের করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

আরও পড়ুন : Coronavirus update in India: ২০২০-তে করোনাকে কাবু করতে মোদীর হাতিয়ার ১৮৯৭ সালের আইন

এইমসের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান বলেন, '২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের সঙ্গে COVID-19-এর ৭০ শতাংশ মিল রয়েছে। তবে তা একেবারেই ভালো মিল নয়। এই ভাইরাসটি বাদুড়ের করোনাভাইরাসের কাছাকাছি গোত্রের। তবে সার্স আক্রান্তরা যেভাবে মারা গিয়েছিলেন, তা থেকে অনুধাবন থেকে করতে পারি যে এই সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাইটোকিন স্ট্রমের ফলে মৃত্যু হচ্ছে।'

আরও পড়ুন : Coronavirus update in India: কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদেশে যাবেন না, জানালেন মোদী

সাইটোকিন স্ট্রম কী?

কোনও সংক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় অত্যধিক মাত্রায় প্রতিরোধক কোষ তৈরি হওয়াকে সাইটোকিন স্ট্রম বলে। এর ফলে দেহের কোষ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বন্ধ করুন