বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > সেনা নামলেও হিংসা অব্যাহত দক্ষিণ আফ্রিকায়, মৃত বেড়ে ৭২, চলছে লুঠতরাজ
দক্ষিণ আফ্রিকায় হিংসা। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
দক্ষিণ আফ্রিকায় হিংসা। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

সেনা নামলেও হিংসা অব্যাহত দক্ষিণ আফ্রিকায়, মৃত বেড়ে ৭২, চলছে লুঠতরাজ

  • এখনও পর্যন্ত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়।

এখনও পর্যন্ত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। লুঠতরাজ অব্যাহত। সেনা ফ্ল্যাগমার্চ করছে বিভিন্ন শহরে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিক্ষোভ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। সেনা রাস্তায় নামলেও বিক্ষোভ বন্ধ হচ্ছে না। জায়গায় জায়গায় লুঠ হচ্ছে দোকান, শপিং মল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এমনকী, ওয়্যারহাউসে। এখনও পর্যন্ত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি।

দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জেকব জুমাকে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান প্রশাসন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। আদালত জুমাকে একটি দুর্নীতি-বিরোধী কমিটির সামনে বসতে বলেছিল। কিন্তু জুমা সেখানে যাননি। এরপরেই আদালত অবমাননার দায়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। নিম্ন আদালত তাঁকে ১৫ মাস জেলে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

জুমার গ্রেফতারের পরেই বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। বহু মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের বিরোধিতা করতে শুরু করেন। কিন্তু অচিরেই বিক্ষোভ অন্য দিকে মোড় নেয়। একদল লোক বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দোকানপাট লুট করতে শুরু করে। জায়গায় জায়গায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দীর্ঘ লকডাউনে হতাশ দেশের একটি অংশের মানুষ। তাঁরা কাজ হারিয়েছেন। অন্যদিকে মূলব্যবৃদ্ধি অব্যাহত। সব মিলিয়ে মানুষের ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বাড়ছিল। বিক্ষোভে সেই বিষয়টিই সামনে চলে এসেছে।

সবচেয়ে বিপর্যস্ত গওতেং এবং কোয়াজুলু-নাটাল। গওতেংয়ের শহর হলো জোহানেসবার্গ, প্রিটোরিয়া। দফায় দফায় বিক্ষোভ চলছে এই দুই শহরে। ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এখানে। অন্যদিকে কোয়াজুলু-নাটালে জুমার বাসস্থান। সেখানেও বিক্ষোভ থামানো যাচ্ছে না। সরকারি হিসেবে সেখানে ২৬জনের মৃত্যু হয়েছে। গওতেংয়ের একটি শপিং মলে মঙ্গলবার লুঠ করার সময় পদপিষ্ঠ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রাস্তায় সেনা

সোমবারই প্রশাসন জানিয়েছিল, সেনা নামানো হবে রাস্তায়। মঙ্গলবার বিভিন্ন শহরে সেনা টহল শুরু করেছে। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভ থামেনি। পুলিশ জানিয়েছে এখনো পর্যন্ত সাতশরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত।

এদিকে দোকানপাটের পাশাপাশি ডারবানে ওয়্যারহাউসেও লুটতরাজ চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। ডারবান দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় আমদানি-রফতানি কেন্দ্র। একাধিক ওয়্যারহাউস আছে সেখানে। স্থানীয় মিডিয়ার ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ধোঁয়া বেরোচ্ছে একাধিক ওয়্যারহাউস থেকে।

সরকারের বক্তব্য

সরকার জানিয়েছে কড়া হাতে বিক্ষোভের মোকাবিলা করা হচ্ছে। কোভিডে এমনিতেই অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। মাঝে তা খানিকটা চাঙ্গা করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীরা লুঠপাট চালাচ্ছে এবং সম্পত্তি নষ্ট করছএ, তাতে অর্থনীতির বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। বহু সময় লাগবে তা ঠিক করতে।

বন্ধ করুন