বাংলা নিউজ > ময়দান > ‘ওকে আউট কর, না হলে পরের পাঁচটা সেশন ও আমাদের পিটাবে,’ আক্রমের কথা ভোলেননি আখতার

‘ওকে আউট কর, না হলে পরের পাঁচটা সেশন ও আমাদের পিটাবে,’ আক্রমের কথা ভোলেননি আখতার

আক্রমের কথা ভোলেননি আখতার (ছবি:গেটি ইমেজ)

শোয়েব আখতার বলেন, ‘যখন আমি আমার রান-আপের দিকে ফিরলাম, আমি শুনতে পেলাম ওয়াসিম ভাই ডাকছেন,এরপরে তিনি আমার কাছে এসে বলেন, ‘তুমি যদি তাকে আউট না করতে পার তাহলে সে পরবর্তী পাঁচটি সেশনে আমাদের ধ্বংস করে দেবে।’

ভারত বনাম পাকিস্তানের সংঘর্ষের মঞ্চ আবারও তৈরি হয়েগেছে। এবার ২০২২ এশিয়া কাপ-এ ২৮ অগস্ট মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে রবিবারের ব্লকবাস্টার সংঘর্ষের আগে প্রাক্তন পাকিস্তানি পেসার শোয়েব আখতার সকলকে স্মৃতির সরণীতে নিয়ে গেলেন। আখতার বছরের পর বছর ধরে ভারত বনাম পাকিস্তান ক্রিকেট প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ছিলেন। দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতার অংশ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার কাছে অন্যতম সফল ম্যাচ ছিল ১৯৯৯ সালের কলকাতা টেস্ট। এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ ছিল এই টেস্ট ম্যাচটি। এই ম্যাচে আখতারকে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় দুটি ডেলিভারি করতে দেখা গিয়েছিল।

আখতার ইডেন গার্ডেন্সে প্রথম ইনিংসে ৭১ রানের বিনিময়ে চারটি উইকেট শিকার করেন। যার মধ্যে সফল ডেলিভারিতে রাহুল দ্রাবিড় এবং সচিন তেন্ডুলকরের উইকেটও ছিল। ভারত বনাম পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতার তার প্রিয় মুহূর্ত হিসাবে এটিকে তিনি স্মরণ করে রেখেছেন। ক্যারিয়ারে কখনও সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ইয়র্কার বোলিং করেছিলেন, আখতার সেই দুটি ডেলিভারির পিছনের আসল গল্পটি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন… বিমানবন্দরে ইরফান পাঠানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার! ভিস্তারার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ

শোয়েব আখতার বলেন, ‘দ্রাবিড় একজন সম্পূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন। তার জন্য,ডিফেন্স ছিল তার আক্রমণের পরিকল্পনা। সামনের পায়ে এসে বল ছেড়ে দিতেন। বল যখন রিভার্স-সুইং করা শুরু করল, ওয়াসিম ভাই আমাকে একটা আশ্চর্যজনক বল করার চেষ্টা করতে বললেন, যা তার পায়ের মধ্যে দিয়ে চলে যায়। আমি তখন বলেছিলাম,এর জন্য আমাকে অতিরিক্ত গতি তুলতে হবে, তাতে তিনি রাজি হয়ে যান। সেই একই মানসিকতা নিয়ে দ্রাবিড় বলকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন কিন্তু ততক্ষণে বলটি যথেষ্ট রিভার্সিং হয়ে গিয়েছিল এবং আমরা তাকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছিলাম।’

শোয়েব আখতার তারপরে বর্ণনা করেছিলেন কীভাবে তিনি তেন্ডুলকরকে প্রথম বলে আউট করার পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রাক্তন পাকিস্তান পেসার সেলিম মালিক,আজহার মাহমুদ এবং অধিনায়ক ওয়াসিম আক্রম সহ সতীর্থদের কাছ থেকে একাধিক নির্দেশনা পেয়েছিলেন বলে স্মরণ করেছেন আখতার। শোয়েব আখতার অনেকবার বলেছেন যে কলকাতা টেস্ট খেলার সময়, তিনি তেন্ডুলকরের মহানুভবতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। যদিও তিনি তাঁর কথা শুনেছিলেন। এটি সম্ভবত প্রথমবার যে আখতার এবং তেন্ডুলকর মুখোমুখি হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন… বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের হাতে এল BCCI সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাগ্য

শোয়েব আখতার বলেন, ‘সেলিম মালিক আমাকে অফে আউট সাইড ওয়াইড বল করতে বললেন। আজহার মাহমুদ তখন এসে আমাকে বল কতটা সুইং করছে তা দিয়ে চতুর্থ স্টাম্পে বল করতে বলেন। যখন আমি আমার রান-আপের দিকে ফিরলাম, আমি শুনতে পেলাম ওয়াসিম ভাই ডাকছেন,এরপরে তিনি আমার কাছে এসে বলেন,‘তুমি যদি তাকে আউট না করতে পার তাহলে সে পরবর্তী পাঁচটি সেশনে আমাদের ধ্বংস করে দেবে।’

আখতার আরও বলেন, ‘আমি বোলিং করতে আসি এবং আমি যখন হাত তুলেছিলাম, সচিন ততক্ষণে তার ব্যাট তুলেছিলেন। সেই মুহূর্তে,আমি জানতাম সে ফাঁদে পড়ে গিয়ছে। আমি সচিন ড্রাইভ করতে যাচ্ছিল দেখে বলটি তার কাছে পৌঁছাতে দেখেছিলাম, আমি নিশ্চিত ছিলাম যে এটি তার ব্যাটে যাবে না। পরে যখন আমি লাহোরে ফিরে যাই, সেই উইকেটের উদযাপনে লোকজন আমাকে কাঁধে তুলে নিয়েছিল।’

বন্ধ করুন