বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > কঙ্গনাকে ‘হারামখোর’ বলার জের, সঞ্জয় রাউতকে তীব্র ভৎর্সনা বম্বে হাইকোর্টের
থামছে না বিতর্ক 
থামছে না বিতর্ক 

কঙ্গনাকে ‘হারামখোর’ বলার জের, সঞ্জয় রাউতকে তীব্র ভৎর্সনা বম্বে হাইকোর্টের

  • সাংসদের এমন মুখের ভাষা! 'আবেদনকারী যা বলেছে তা ঠিক নয়, তবে জনপ্রতিনিধি মহিলার জন্য এমন শব্দ ব্যবহার করতে পারে না,পর্যবেক্ষণ আদালতের।

মণিকর্ণিকা ফিল্মসের অফিস ভেঙে দেওয়ার প্রতিবাদে ক্ষতিপূরণ দাবি করে বিএমসির বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে মামলা ঠুকে দিয়েছেন কঙ্গনা রানাওয়াত। এই মামলায় বৃহন্মমুম্বই পুরসভার পাশাপাশি  শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়েছেন নায়িকা। সোমবারই এই মামলার শুনানিতে রাউতকে নিজের পক্ষ রাখার সুযোগ দিয়েছিল আদালত। কঙ্গনাকে কটাক্ষ করে রাউতের করা ‘হারামখোর লড়কি’ সংক্রান্ত সাক্ষাত্কারের গোটা ভিডিয়ো আদালত জমা দিতে বলেছিল অভিযোগকারীর আইনজীবীকে। পাশাপাশি যে সাক্ষাত্কারে রাউত ‘হামারখোর’ শব্দের ব্যাখা দিয়েছেন ‘নটি’ (Naughty) হিসাবে তাও দেখতে চায় বম্বে হাইকোর্ট। রাউতের আইনজীবীকে আদালত পালটা প্রশ্ন করে যদি সত্যি যদি ওই শব্দের মানে নটি হয়, তাহলে নটি শব্দের হিন্দি প্রতিশব্দ কী?

মঙ্গলবার আদালতে ফের এই প্রসঙ্গে উঠলে বিচারপতি এসজি কথাওয়লা ও আরআই চাগলার ডিভিশন বেঞ্চ তীব্র ভৎর্সনা করেন রাউতকে। তাঁরা জানান, 'আবেদনকারীর সকল বক্তব্যের সাথে আমরাও একমত নই । কিন্তু এইভাবে কি কেউ সম্বোধন করতে পারেন ? আমরা সকলেই মহারাষ্ট্রবাসী হিসেবে গর্ব অনুভব করি। কিন্তু এই কি তার নমুনা ? পরিস্থিতি যাই হয়ে যাক না কেন , আপনাকে সংবেদনশীল হতে হবে , দয়াবান হতে হবে । এই জাতীয় ভাষা আপনি কখনোই কারুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারেন না । '

এদিন রাউতের আইনজীবী , তাঁর মক্কেলের ব্যবহৃত ভাষার প্রতি অধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে কোন পরিস্থিতিতে তিনি এতটা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন সেই দিকে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন । জানান অভিযোগকারী নিজেই তাঁর মক্কেলকে উত্তেজিত করেছেন এবং বর্তমানে আদালতের সামনে ভুয়ো পিটিশনও দাখিল করেছেন । সংবাদ সংস্থা পিটিআই এর রিপোর্ট অনুসারে আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় সঞ্জয় রাউত দাবি করেছেন তিনি কঙ্গনাকে কোনও হুমকি দেননি - শুধু তাঁর ' PoK ' সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অভিনেত্রীকে অসৎ বলে উল্লেখ করেছিলেন ।

মুম্বইকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সাথে তুলনা করে সঞ্জয়ের প্রকাশ্য হুমকির মুখে পড়েছিলেন কঙ্গনা । একজন পার্লামেন্টের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে সঞ্জয় রাউত এমন অসংবেদনশীল আচরণ করতে পারেন , তা জানতে চেয়ে এদিন সাংসদকে তুলোধোনা করেন দুই বিচারপতি। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয় , রাউত এফিডেভিট দিচ্ছেন অর্থাৎ অন্তত স্বীকার করে নিচ্ছেন তিনি এই শব্দগুলি ব্যবহার করেছেন কঙ্গনার বিরুদ্ধে । উল্লেখ্য পূর্বের শুনানিতে শিবসেনা নেতার আইনজীবী জানিয়েছিলেন তাঁর মক্কেল অভিনেত্রীর প্রসঙ্গে কোনো কথা উল্লেখ করেননি ।

অভিনেতা সুশান্ত সিংয়ের মৃত্যু নিয়ে মুম্বই পুলিশের তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত। সেই সময় থেকেই মহারাষ্ট্র সরকারের সাথে তাঁর তরজা শুরু হয় । এরপর কঙ্গনাকে মুম্বইতে না ফেরার হুমকি দেন রাউত। এই মর্মেই কঙ্গনা মুম্বইয়ের সঙ্গে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের তুলনা টেনে বসেন।  

এরই মাঝে তাৎপর্যপূর্ণভাবে অবৈধ নির্মাণের কারণ দেখিয়ে মাত্র ২৪ ঘন্টার নোটিশে নজিরবিহীনভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় কঙ্গনার পালি হিলসের অফিস বাড়ি। অভিনেত্রীর হিমাচল থেকে মুম্বই পৌঁছানোর মাত্র ঘন্টাখানেক আগে।গত ৯ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনার বিরুদ্ধেই বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন কঙ্গনা। 'সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্যের খেসারত দিতে হল '- নিজের সংশোধিত পিটিশন নিয়ে বম্বে হাইকোর্টে  এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। দাবি করেছেন ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ। আপাতত এই নির্মাণ ধ্বংসের বৈধ কারণ সম্পর্কে আদালতকে ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে বিএমসিকে। 

বন্ধ করুন