বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > গালওয়ান সংঘর্ষের ভিডিয়ো প্রকাশ চিনের, পিঠ বাঁচানোর চেষ্টায় দায় ‘বিদেশি বাহিনীকে’
ভিডিয়োর দৃশ্য। (ছবি সৌজন্য স্ক্রিনশট গ্লোবাল টাইমস ভিডিয়ো)
ভিডিয়োর দৃশ্য। (ছবি সৌজন্য স্ক্রিনশট গ্লোবাল টাইমস ভিডিয়ো)

গালওয়ান সংঘর্ষের ভিডিয়ো প্রকাশ চিনের, পিঠ বাঁচানোর চেষ্টায় দায় ‘বিদেশি বাহিনীকে’

  • ভিডিয়োয় ভারতীয় সেনার নাম একবারও করা হয়নি।

সতীর্থ পত্রনবীশ

গালওয়ান সংঘর্ষ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আচমকাই তৎপরতা বেড়ে উঠল চিনের। শুক্রবার সন্ধ্যায় চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে গালওয়ানের সংঘর্ষের আগে ও পরের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করা হল। গত বছর ১৫ জুনের যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের যাবতীয় দায়ভার ‘বিদেশি বাহিনী’-র উপর চাপিয়েছে বেজিং।

ভিডিয়োর আবার দুটি পৃথক ভার্সন বের করা হয়েছে। একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে চিনের জাতীয় সম্প্রচারকারী সিজিটিএন এবং অপরটি সামনে নিয়ে এসেছে সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস। দুটি ভিডিয়োর দৈর্ঘ্য আলাদা এবং তা ‘এডিট’ করা হয়েছে। তবে দুটিতেই খাড়া পর্বত শৃঙ্গের মাঝে একটি নদীর পাশে ভারতীয় এবং চিনা সেনারা কথাবার্তা চালানো, একে অপরের দিকে তেড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। 

গ্লোবাল টাইমসের ৩ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ভিডিয়োয় চিনা ভাষায় দাবি করা হয়েছে, ‘বিদেশি বাহিনী’-র কারণেই গত বছরের এপ্রিল থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীকে ‘বহিরাগত’-এর তকমা দিয়ে চিনা ধারাভাষ্যে শোনা যায়, চুক্তি লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার অবস্থার পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে ইংরেজিতে সংক্ষিপ্ত অনুবাদও ভিডিয়োয় জুড়ে দেওযা হয়েছে। 

তারইমধ্যে একটি নদীর ধারে একটি তাঁবু নিয়ে আসার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। চিনা ধারাভাষ্যকারের দাবি, ভারতীয়রা গালওয়ানে তাঁবু তৈরি করেছিল। সেইসঙ্গে নয়া একটি তাঁবুও নিয়ে আসছেন। তারপরই জওয়ানদের নদী পার হওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। সঙ্গে ভিডিয়োয় শোনা যায়, উত্তেজনা তৈরির জন্য পূর্ববর্তী চুক্তি লঙ্ঘন করে সীমান্ত টপকেছে ‘বিদেশি বাহিনী’। সেই অভিযোগের মধ্যে চশমা পরা ভারতীয় সেনার এক আধিকারিকের সঙ্গে চিনা সেনার তিন প্রতিনিধির কথাবার্তা দৃশ্য দেখানো হয়। তাঁদের মধ্যে একজনকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) কমান্ডার কিউ ফাবাও হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ভারতীয় সেনা ওই আধিকারিক দাঁড়িয়েছিলেন। পরের দৃশ্যে দু'পক্ষের সেনার মধ্যে সংঘাতের ছবি দেখানো হয়। তারপর রাতেরও কয়েকটি দৃশ্য দেখানো হয় এবং চিনা ধারাভাষ্যে দাবি করা হয়, ‘চিনা সেনা বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেছে। নিয়মভঙ্গকারীদের হারানো হয়েছে এবং তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সেই ভিডিয়ো প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগেই গালওয়ান সংঘর্ষে কতজন চিনা ফৌজি মারা গিয়েছেন, তা প্রথম সরকারিভাবে স্বীকার করেছে চিন। তা নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নিদেনপক্ষে একটি সংখ্যা তুলে ধরা হয়। ভিডিয়োয় ওই মৃত ফৌজিদের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের দেহ অজানা চিনা বায়ুঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে সামরিক মর্যাদায় তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। 

কিন্তু আচমকা কেন সেই ভিডিয়ো সেই প্রকাশ করা হয়েছে? কূটনৈতিক মহলের মতে, গালওয়ান নিয়ে দেশের অভ্যন্তরেই চাপ বাড়ছিল বেজিংয়ের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সামরিক ভাবাবেগের তাস খেলেছেন শি জিনপিংরা। যদিও বিষয়টি নিয়ে ভারতের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বন্ধ করুন