বাংলা নিউজ > ময়দান > তালিবান শাসনে আফাগানিস্তানে ক্রিকেট ম্যাচ! কাবুল স্টেডিয়ামে উড়ল আফগান ও তালিবান পতাকা
কাবুল স্টেডিয়ামে উড়ল আফগানিস্তান ও তালিবানের পতাকা (ছবি:গেটি ইমেজ)
কাবুল স্টেডিয়ামে উড়ল আফগানিস্তান ও তালিবানের পতাকা (ছবি:গেটি ইমেজ)

তালিবান শাসনে আফাগানিস্তানে ক্রিকেট ম্যাচ! কাবুল স্টেডিয়ামে উড়ল আফগান ও তালিবান পতাকা

  • আফগানিস্তানের সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি ট্রায়াল ম্যাচ আয়োজন করল তালিবান সরকার। চলতি বছরের গত ১৫ অগস্ট তালিবান বাহিনী আফগানিস্তান দখলের পর এটাই ছিল সেই দেশে প্রথম কোনও ক্রিকেট ম্যাচ।

অতীতে তালিবানের সময়কালে খেলার স্টেডিয়াম গুলিকে গণহত্যার কাজে ব্যবহার করত তালিবান সরকার। তবে এ বারে অন্য ছবি দেখল বিশ্ব। আফগানিস্তানের সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি ট্রায়াল ম্যাচ আয়োজন করল তালিবান সরকার। তাও আবার কাবুল স্টেডিয়ামে। যদিও কেনও মহিলা ম্যাচ দেখতে এলেননা তবু ৪০০০ দর্শক এই ম্যাচ উপভোগ করলেন। স্টেডিয়ামে উড়ল আফগান ও তালিবান পতাকা। চলতি বছরের গত ১৫ অগস্ট তালিবান বাহিনী আফগানিস্তান দখলের পর এটাই ছিল সেই দেশে প্রথম কোনও ক্রিকেট ম্যাচ। দুটি দল ‘পিস ডিফেন্ডার’ (শান্তিরক্ষী) ও ‘পিস হিরোজ’ (শান্তির নায়ক) নামে মুখোমুখি হয়। আফগানিস্তান জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এ ম্যাচে খেলেছেন। ক্রিকইনফো লিখেছে, গুলবদীন নাইব, হাসমতউল্লাহ শহিদি ও রহমত শাহ খেলেছেন।

কাবুল স্টেডিয়ামে তালিবান কমান্ডার হামজা সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘এখানে ক্রিকেট ম্যাচ দেখাটা দারুণ ব্যাপার।’ কাবুল স্টেডিয়ামে দর্শকদের শান্ত রাখা এবং ম্যাচের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত যোদ্ধা দলের নেতৃত্বে ছিলেন হামজা। নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্বে নিয়োজিত যোদ্ধাদের অনেকেই নিজের কাজ ভুলে দর্শকদের চেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়ে ম্যাচটা দেখেছেন। হামজাও নিজেকে দাবি করলেন ক্রিকেটার হিসেবে, ‘আমি নিজেও খেলোয়াড়। একজন অলরাউন্ডার।’

কাবুল স্টেডিয়ামে বিক্রি হচ্ছে আফগানিস্তানের পতাকা (ছবি:গেটি ইমেজ)
কাবুল স্টেডিয়ামে বিক্রি হচ্ছে আফগানিস্তানের পতাকা (ছবি:গেটি ইমেজ)

তবে দেখার মতো দৃশ্য ছিল অন্যকিছু—মাঠে আফগানিস্তানের পতাকা ও তালিবান বাহিনীর পতাকা পাশাপাশি। আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জাতীয় ঐক্যের স্বার্থেই এই ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে। দেশটিতে খেলাধুলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবশ্য তালিবানের অধীনে আসার পর থেকে খেলা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। তালিবান বাহিনী প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকার সময়ে দেশটিতে অনেক খেলাই নিষিদ্ধ ছিল। তবে এ বারের ছবিটা আালদা ছিল। এবার তালিবান বাহিনী ক্ষমতায় আসার পর দেশটির জনগণের স্বাভাবিক জীবন–যাপন নিয়ে তাই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দ। এ দিন ঐক্যের ম্যাচে দর্শকাসনে কোনও নারী ছিলেন না। তবে উপস্থিত প্রায় ৪ হাজার দর্শক এবং নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে উৎসাহের কমতিও ছিল না। ম্যাচটি ছিল টি–টোয়েন্টি।

ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে মাঠে এলেন ৪০০০ দর্শক (ছবি:গেটি ইমেজ)
ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে মাঠে এলেন ৪০০০ দর্শক (ছবি:গেটি ইমেজ)

কালকের ম্যাচে দর্শকেরা আফগানিস্তানের চিরায়ত পতাকা এবং তালেবান পতাকা—দুটোকেই সাদরে করণ করে নেন। ক্রিকেটপ্রেমীরা বিনে পয়সায় মাঠে ঢুকে খেলা দেখেছেন। তবে মাঠে ঢোকার পথে সবার তল্লাশি নিয়েছেন তালেবান নিরাপত্তারক্ষীরা। ম্যাচে পিস ডিফেন্ডাররা ৬২ রানে জেতার পর আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হামিদ শিনওয়ারি জানান, ইতিবাচক দিক বোঝাতেই দুটো পতাকা পাশাপাশি রাখা হয়। ‘এটা ঐক্যের প্রতীক’—বলেন শিনওয়ারি।

ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছেন দুই আফগান ক্রিকেটার (ছবি:গেটি ইমেজ)
ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছেন দুই আফগান ক্রিকেটার (ছবি:গেটি ইমেজ)
বন্ধ করুন