বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > চিনের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেনি, '৬ মাসে শূন্য অনুপ্রবেশের' পর সংসদে বলল কেন্দ্র
চিনের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেনি, '৬ মাসে শূন্য অনুপ্রবেশের' পর সংসদে বলল কেন্দ্র (ফাইল ছবি, সৌদন্য পিটিআই)
চিনের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেনি, '৬ মাসে শূন্য অনুপ্রবেশের' পর সংসদে বলল কেন্দ্র (ফাইল ছবি, সৌদন্য পিটিআই)

চিনের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেনি, '৬ মাসে শূন্য অনুপ্রবেশের' পর সংসদে বলল কেন্দ্র

সংসদে জানানো হয়, প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় কেন্দ্র।

মস্কোতে চিনের সঙ্গে বৈঠকের পর বিদেশ মন্ত্রকের তরফে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল, বুধবার তার থেকে ভিন্ন অবস্থান নিল কেন্দ্র। সংসদে কেন্দ্রের তরফে জানানো হল, সম্প্রতি চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হয়নি।

সম্প্রতি নেপাল, চিন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং মায়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চিড় ধরেছে কিনা, সেই প্রশ্নের জবাবে লোকসভায় বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভি মুরলীধরন বলেন, 'না।'

তিনি জানান, প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় কেন্দ্র। ভারত 'নিজের প্রতিবেশিদের সক্রিয় রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সহযোগী এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প-সহ ওই দেশগুলির সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পs যুক্ত আছে।'

ভারতের অন্য কোনও প্রতিবেশির সঙ্গে চিনের ভালো সম্পর্ক আছে কিনা, সে বিষয়েও প্রশ্ন করেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়। জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের 'সম্পর্ক নিজের পায়ে খাড়া আছে এবং তৃতীয় কোনও দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির যে সম্পর্ক আছে, তা প্রভাব ফেলে না।'

 অথচ গত ১১ সেপ্টেম্বর মস্কোয় চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের বৈঠকের পর সাউথ ব্লকের তরফে বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখা 'সম্পর্ক বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ' এবং পূর্ব লাদাখের সাম্প্রতিক ঘটনায় 'অনিবার্যভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিকাশে প্রভাব ফেলেছে।'

যদিও বিষয়টির সঙ্গে অবহিত আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে প্রতিবেশিদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বলেছেন বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী। কোনও নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্তব্য করেননি তিনি।

এর আগে, বুধবার সকালে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়, গত ছ'মাসে পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ বেড়েছে। তবে সেই সময়ে চিন সীমান্তে কোনও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।

গত ছ'মাসে পাকিস্তান ও চিন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে কিনা, তা নিয়ে কেন্দ্রকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তার লিখিত জবাবে বুধবার সংসদের উচ্চকক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, ‘এটা সত্যি যে গত ছ'মাসে পাকিস্তান ও চিন থেকে অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে।’

পরিসংখ্যান তুলে ধরে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে পাক সীমান্ত দিয়ে ৪৭ টি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এপ্রিলে সবথেকে বেশি ২৪ টি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। জুলাইয়ে ১১, মে'তে আট এবং মার্চে চারটি অনুপ্রবেশের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে ফেব্রুয়ারি ও জুন মাসে কোনও অনুপ্রবেশ ঘটেনি বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে পাকিস্তান ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ চিনের সীমান্ত দিয়ে অবশ্য অনুপ্রবেশের ঘটনাই হয়নি। কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী, গত মে মাস থেকে পূর্ব লাদাখ সেক্টরে চূড়ান্ত উত্তেজনার পরিস্থিতির মধ্যেও চিন সীমান্ত দিয়ে ভারতে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করেনি। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চেও চিন থেকে অনুপ্রবেশের সংখ্যা ছিল শূন্য।

গালওয়ান সংঘর্ষের পরও কার্যত একইসুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন, ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি চিন। যে মন্তব্য নিয়ে সেই সময় ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল চিনা সংবাদমাধ্যমগুলি। টুইটারেও চিনা সাংবাদিককূল মোদীর সেই বক্তব্যকে নিয়ে শোরগোল করার চেষ্টা করেছিল।

বন্ধ করুন